Sunday, 14 August 2022

কানাডায় ডলি’র ইতিহাস, পারলেন না অন্য ২ বাংলাদেশি

Editor: CanBangla
Friday, 03 June 2022 75

অনলাইন ডেস্ক : টানা দ্বিতীয়বার অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল সরকারের এমপিপি হলেন ডলি বেগম। বিশাল ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে ডলি বেগম কানাডার মূল ধারার রাজনীতিতে ইতিহাস তৈরি করলেন। ডলিই প্রথম কোন বাংলাদেশি কানাডিয়ান রাজনীতিবিদ যিনি টানা দুইবার এমপিপি নির্বাচিত হলেন। ডলি বেগমের প্রাপ্ত ভোট ১৫ হাজার ৯৫৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রগ্রেভি কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেট স্নিডার পেয়েছেন নয় হাজার ৪৩৬ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন লিবারেল পার্টির লিসা প্যাটেল। তার প্রাপ্ত ভোট ছয় হাজার ৩৫৬। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোট বেশি পেয়ে ডলি বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।

ডলি বেগম তার বিজয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে বলেন, ২৩ বছর আগে কানাডা এসেছিলাম। তখন ইংরেজি জানতাম না। তাই স্কুলে যেতে চাইতাম না।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আপনারাই আমাকে তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, কানাডায় রাজনীতি করতে আমার মা সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। সহায়তা দিয়েছেন। এ কারনেই আমি রাজনীতিতে কিছু করতে পারছি।

এদিকে প্রভিন্সিয়াল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন আরও দুই বাংলাদেশি কানাডিয়ান প্রার্থী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহিন আলিম ইটোবিকো-লেকশোতে নির্বাচনী লড়াই করেছেন। তিনি এনডিপির প্রার্থী। তাঁর প্রাপ্ত ভোট আট হাজার ৫৯৫। তিনি তার আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এছাড়া ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন কানিজ মৌলি। তিনি ১৫ হাজার ৭৬২ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী কনজাভেটিভ পার্টির প্রার্থীর চেয়ে পাঁচ হাজার ভোট কম পেয়েছেন তিনি।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে (কানাডার টরন্টোর স্থানীয় সময়) অন্টারিও প্রদেশের স্কারবো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে তার নির্বাচিত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। রাজনীতিবিদ ডলি বেগম মৌলভীবাজারের স্থানীয় মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করেন। ২০১২ সালে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়ালেখা শেষ করার পর সিটি অব টরেন্টোতে প্রায় ১০ মাস কাজ করেন। তিনি রিচার্স অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন দ্য সোসাইটি অব এনার্জি প্রফেশনালসে।

ডলির জন্ম হরিণাচং গ্রামে। ডলির শৈশব কেটেছে বাজরাকোনা আর হরিণাচং নামের দুই গ্রামে। দুই গ্রামের দূরত্ব মাত্র এক ঘণ্টার পথ। নিজের শৈশব নিয়ে বললেন, শৈশবের স্মৃতিগুলো এখনও চকচকে। বাজরাকোনা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু। বিদেশে আসার সময় ডলি নামটাই ছিল পাসপোর্টে। আমার সব সময়ের সহপাঠী ছিল কলি। বয়সে আমার চেয়ে ১৬ দিনের বড় হবে। ওর আকস্মিক মৃত্যুতে ঘুমোতে পারিনি অনেক রাত। তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। মনুমুখ পিটি হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও বেশি দিন পড়া হয়নি। চলে আসতে হয় কানাডায়। কানাডায় এসেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন বাবা রাজা মিয়া। প্রবাস জীবনের শুরুতেই কঠিন হোঁচট। সংসারে নেমে এল টানাপোড়েন। তাতে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেননি মা জবা বেগম। ভাই মহসিন মিয়া। ডলির চেয়ে আড়াই বছরের ছোট। তিনি এখন হোটেল ও আবাসন খাতে কাজ করেছেন।

এমন বাস্তবতা থেকেই বাজরাকোনা গ্রাম থেকে আসা কিশোরী ডলি গড়লেন নতুন ইতিহাস। ২০১৮ সালের ৮ই জুন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন ডলি বেগম। কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কারও এমন সাফল্যের ঘটনা এটাই প্রথম। টরেন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশ। অন্টারিও প্রাদেশিক ক্যাম্পেইন সমন্বয়ক হিসেবে সরব ছিলেন কিপ ‘হাইড্রো পাবলিক’ প্রচারাভিযানে। প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নে। সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ, অন্টারিও ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, সিটি অব টরন্টো স্পটলাইটসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন নিজের সামাজিক কাজের জন্য। এসব সাফল্যকে বুকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান ডলি বেগম।